ইসলামিক জীবনধারা

পাঁচ কালিমা অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ জেনে নিন | পাঁচ কালেমা

Rate this post

পাঁচ কালিমা অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ খুজছেন? পাঁচ কালিমা অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ সম্পর্কে জানতে পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন কেননা পোস্টের শেষে মাঝে মাঝে এবং শেষে রয়েছে বিশেষ চমক। কথা না বাড়িয়ে পাঁচ কালিমা অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

সূচিপত্র

ইসলামের মূল স্তম্ভ কয়টি | ইসলামের রুকন কয়টি

সকলেই জানি, ইসলামের মূল স্তম্ভ বা রুকন ৫ টি। ইসলামের রুকনগুলো হলো –

  1. কালিমা (ইমান)
  2. সালাম
  3. সাওম
  4. হজ
  5. যাকাত

ইসলামের এই পাঁচটি স্তম্ভ বা রুকনের মধ্যে কালিমা প্রথম। নিম্নে ইসলামের পাঁচ কালিমা অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

 

পাঁচ কালিমা | পাঁচ কালিমা অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ

আমরা অনেকেই জানি, ইসলামের কালিমা ৫টি। কিন্তু কালিমা অর্থ বাক্য, কথা বা বাণী। ইসলামের বাণী বা কালিমা অনেক। তবে প্রধাণত ৬টি কালিমা রয়েছে। (পাঁচ ও ছয় নিয়ে অনেক মতোভেদ রয়েছে)

➤ ইসলামিক অন্যান্য পোস্ট পড়তে ক্লিক করুন: ইসলামিক জীবনধারা

➤ কালেমা কি? উইকিপিডিয়া থেকে জানতে ক্লিক করুন: কালেমা

মতোভেদ থাকুক কিংবা না থাকুক। মুসলমান হিসেবে আমাদের উচিত সবগুলো কালিমা জানা এবং মুখস্থ রাখা। ৬টি কালিমা হলো:

  1. কালিমা তাইয়্যেবা
  2. কালিমা শাহাদাৎ
  3. কালিমা তাওহীদ
  4. কালিমা তামজিদ
  5. কালিমা রদ্দে কুফর ও শিরক
  6. কালিমা ইস্তিগফার

 

কালিমা তাইয়্যেবা | পাঁচ কালিমা অর্থসহ (Kalima Tayyiba Bangla)

আমরা জনি যে, কালিমা তাইয়্যেবা হলো পাঁচ কালিমার মধ্যকার প্রথম ও প্রধান রুকন। কেউ যদি ইমান না আনে সে প্রকৃত মুসলিম হতে পারবে না। কালিমা তাইয়্যেবায় আমরা আল্লাহকে এক ও অদ্বিতীয় হিসেবে স্বীকার করি এবং হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে আল্লাহ রাসুল হিসেবে বিশ্বাস করি।

কালিমা তাইয়্যেবা আরবিতে

◑ لآ اِلَهَ اِلّا اللّهُ مُحَمَّدٌ رَسُوُل اللّهِ

কালিমা তাইয়্যেবা বাংলা উচ্চারণ

“লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)।”

কালিমা তাইয়্যেবার অর্থ

“আল্লাহ ব্যতীত আর কোন মাবুদ নেই। হযরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর নবী বা রাসূল।”

যখনই হযরত মুহাম্মদ (সা)-এর নাম উচ্চারণ করা হয় বা শোনা যায় তখনই ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম‘ অর্থাৎ তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। এ দু’আ অন্তত একবার পড়া ওয়াজিব।

➤ আরো পড়ুন: সহজে ইংরেজি শেখার উপায় | ইংরেজি শেখার সহজ উপায় জানুন

 

কালিমা শাহাদাৎ | পাঁচ কালিমা অর্থসহ (Kalima Shahadat Bangla)

আমরা জানি, কালিমা অর্থ বাক্য বা বাণি। শাহাদাৎ অর্থ সাক্ষ দেয়া। কালিমা শাহাদাৎ অর্থ সাক্ষ্য দেখার বাক্য। অর্থাৎ, কালিমা শাহাদাৎ এর মাধ্যমে আমরা আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দিয়ে থাকি এবং হযরত মুহাম্মদ (সা.) হলেন আল্লাহ প্রেরিত তাঁর বান্দা ও রাসুল, সেই সাক্ষ্যও দিয়ে থাকি।

কালিমা শাহাদাৎ আরবিতে

اشْهَدُ انْ لّآ اِلهَ اِلَّا اللّهُ وَحْدَه لَا شَرِيْكَ لَه، وَ اَشْهَدُ اَنَّ  مُحَمَّدً اعَبْدُهوَرَسُولُه

কালিমা শাহাদাৎ বাংলা উচ্চারণ

“আশহাদু আল্লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা- শারী-কালাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু- ওয়া রাসূ-লুহু।”

কালিমা শাহাদাৎ এর অর্থ

“আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবূদ নেই । তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই এবং আরও সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, নিঃসন্দেহে মুহাম্মদ (সা) আল্লাহ তা’আলার বান্দা ও রাসূল।”

➤ আরো পড়তে পারেন: কুরবানির ঈদ মোবারক স্ট্যাটাস ২০২২ – ঈদ মোবারক 2022 (কুরবানির ঈদ স্ট্যাটাস)

 

কালিমা তাওহীদ | পাঁচ কালিমা অর্থসহ (Kalima Tauhid Bangla)

কালিমা তাওহীদ আরবিতে

لاَ اِلَهَ اِلاَّ اَنْتَ وَاحِدَ لاَّثَانِىَ لَكَ مُحَمَّدُرَّ سُوْلُ اللهِ اِمَامُ الْمُتَّقِيْنَ رَسُوْ لُرَبِّ الْعَلَمِيْنَ

কালিমা তাওহীদ বাংলা উচ্চারণ

“লা-ইলাহা ইল্লা আনতা ওয়া- হিদাল্লা ছা-নিয়ালাকা মুহাম্মাদুর্ রাসু-লুল্লাহি ইমা-মুল মুত্তাকী-না রাছু-লু রববিল আ-লামীন।”

কালিমা তাওহীদের অর্থ

“হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই। তুমি এক, তোমার কোন দ্বিতীয় নেই। মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর প্রেরিত মহাপুরুষ, মুত্তাকীদের ইমাম এবং বিশ্বপালকের রাসূল।”

➤ বর্তমানের সোনার দাম জানতে ক্লিক করুন: সোনার দাম কত? আজকের সোনার দাম

 

কালিমা তামজীদ | পাঁচ কালিমা অর্থসহ (Kalima Tamojid Bangla)

কালিমা তামজীদ আরবিতে

لَا اِلَهَ اِلَّا اَنْتَ نُوْرَ يَّهْدِىَ اللهُ لِنُوْرِهِ مَنْ يَّشَاءُ مُحَمَّدُ رَّسَوْ لُ اللهِ اِمَامُ الْمُرْسَلِيْنَ خَا تَمُ النَّبِيِّنَ

কালিমা তামজীদ বাংলা উচ্চারণ

লা-ইলাহা ইল্লা আনতা নুরাই-ইয়াহ্ দিয়াল্লাহু লিনু-রিহি মাইয়্যাশা-উ মুহাম্মাদুর-রসূ-লুল্লা-হি ইমা-মূলমুরছালী-না খাতামুন-নাবিয়্যীন।

কালিমা তামজীদের অর্থ

“হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া কেহই উপাস্য নাই, তুমি জ্যোতিময় । তুমি যাহাকে ইচ্ছা আপন জ্যোতিঃ দান কর। হযরত মুহাম্মদ (সা.) তোমার প্রেরিত পয়ঃগম্বরগণের ইমাম এবং শেষ নবী।”

 

 

কালিমা রদ্দে কুফর ও শিরক | পাঁচ কালিমা অর্থসহ (Raad Al Kufr Bangla)

কালিমা রদ্দে কুফর ও শিরক আরবিতে

اَللَّهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُبِكَ مِنْ اَنْ اُشْرِكَ بِكَ شَيْئً وَاَنَا اعَلَمُ بِهِ وَاَسْتَغْفِرُكَ لِمَا اعَلَمُ بِهِوَمَا لاَاعَلَمُ بِهِ تُبْتُ عَنْهُ وَتَبَرَّأتُ مِنَ الْكُفْرِ وَالشِّرْكِ وَالْمَعَاصِىْ كُلِّهَا وَاَسْلَمْتُ وَاَمَنْتُ وَاَقُوْلُ اَنْ لاَّاِلَهَ اِلاَّاللهُ مُحَمَّدُ رَّسَوْلُ اللهِ

কালিমা রদ্দে কুফর ও শিরক বাংলা উচ্চারণ

“আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিন আন উশরিকা বিকা শাইআও ওয়া আনা- আ্লামু বিহি ওয়া আসতাগ ফিরুকা লিমা আলামু বিহি ওয়ামা লা আলামু বিহি তুবতু আনহু ওয়া তাবাররাতু মিনাল কুফরি ওয়াশশিরকি ওয়াল মা আ-ছি কুল্লিহা ওয়া আসলামতু ওয়া আমানতু ওয়া আক্বলু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদু রাসূলুল্লাহ।”

কালিমা রদ্দে কুফর ও শিরকের অর্থ

“হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি আমি যেন সজ্ঞানে কাউকে তোমার সাথে শরীক না করি। আমার জানা এবং অজানা গুনাহর জন্য আপনার নিকট ক্ষমা চাচ্ছি এবং তা হতে তওবা করছি। আমি কুফরী, শিরকী ও সব রকমের পাপাচার থেকে পরহেজ করেছি। আমি আত্মসমর্পণ করেছি। আমি তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করছি ও বলছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত ইবাদতের যোগ্য কেউ নেই ।”

 

কালিমা ইস্তিগফার | পাঁচ কালিমা অর্থসহ (Kalima Istigfar Bangla)

কালিমা ইস্তিগফার আরবিতে

اَسْتَغْفِرُ اللهِ رَبِّىْ مِنْ كُلِِّ ذَنْۢبٍ اَذْنَبْتُهٗ عَمَدًا اَوْ خَطَا ًٔ سِرًّا اَوْ عَلَانِيَةً وَّاَتُوْبُ اِلَيْهِ مِنَ الذَّنْۢبِ الَّذِیْٓ اَعْلَمُ وَ مِنَ الذَّنْۢبِ الَّذِىْ لَآ اَعْلَمُ اِنَّكَ اَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوْبِ وَ سَتَّارُ الْعُيُوْبِ و َغَفَّارُ الذُّنُوْبِ وَ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ الْعَلِىِِّ الْعَظِيْمِؕ

কালিমা ইস্তিগফার বাংলা উচ্চারণ

“আস্তাগফিরুল্লাহ রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিন আজাবাতুন আমাদান আও খাত আন সিরান আও আলনিয়াতান ওআ অতুবু ইলাইহে মিনাজ জাম্বিল লাজি আলামু অয়া মিনাজ জাম্বিল লাজি লা আলামু ইন্নাকা আন্তা আলামুল গাউয়ুবি অয়া সাত্তারুল উইউব অয়া গাফফারুজ জুনবি ওয়া লাহাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিউল আযিম।”

কালিমা ইস্তিগফারের অর্থ

“আল্লাহ এক আর কোন মাবুদ নেই। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর প্রেরিত রাসূল। ( অর্থঃ আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি যে আমার খোদা, সে সব পাপ থেকে যা আমি জেনে অথবা না জেনে , গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে করেছি এবং আমি আল্লাহ্ দিকে যাই সেই সমস্ত পাপ থেকে যা আমি জানি কিংবা জানিনা। নিশ্চয়ই তিনি ( আল্লাহ ), তিনি সব গোপন কিছু জানেন এবং সব গোপন বিষয় সম্পর্কে অবগত আছেন এবং সমস্ত পাপের ক্ষমাকারী। এবং তিনি ( আল্লাহ ) ছাড়া কোন ক্ষমতা বা শক্তি নেই, তিনি সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে মহান।”

এছাড়াও বেশ কিছু কালিমা রয়েছে। তারমধ্যে কিছু দেয়া হলো।

➤ আরও পড়ুন: সৃজনশীল প্রশ্ন কী? সৃজনশীল প্রশ্ন লেখার নিয়ম (বোর্ডের নিয়ম)

 

অন্যান্য কালিমা

কালিমা তাহমীদ | ইসলামের কালিমা (Kalima Tahmid Bangla)

কালিমা তাহমীদ আরবিতে

 سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم وبحمده استغفر الله

কালিমা তাহমীদ বাংলা উচ্চারণ

“সুবহানাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহি- সুবহা-নাল্লাহিল আজী-মু ওয়া বিহামদিহি- ওয়াসতাগফিরুল্লাহ।”

কালিমা তাহমীদের অর্থ

“আমি আল্লাহ পাকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি ও তাঁকে তাঁর প্রশংসার সাথে স্মরণ করছি। আমি মহান আল্লাহ পাকের প্রশংসার সাথে তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং আল্লাহ তা’আলার সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”

 

ঈমানে মুজমাল

ঈমানে মুজমাল আরবিতে

امَنْتُ بِاللهِ كَمَا هُوَ بِاَسْمَائِه وَصِفَاتِه وَقَبِلْتُ جَمِيْعَ اَحْكَامِه وَاَرْكَانِه

ঈমানে মুজমাল বাংলা উচ্চারণ

“আ-মানতু বিল্লা-হি কামা-হুয়া বি আসমা-ইহী ওয়া সিফা-তিহী ওয়া ক্বাবিলতু জামী-আ আহকা-মিহী ওয়া আরকা-নিহী।”

ঈমানে মুজমালের অর্থ

“আল্লাহ তা’আলা স্বীয় নামাবলী ও গুণাবলীর সাথে যেভাবে বিরাজমান আছেন তদনুরূপ তার প্রতি ঈমান আনলাম এবং তার হুকুম আহকাম ও বিধান মেনে নিলাম।”

 

ঈমানে মুফাস্সাল

ঈমানে মুফাস্সাল আরবিতে

امَنْتُ بِاللهِ وَمَلئِكَتِه وَكُتُبِه وَرَسُوْلِه وَالْيَوْمِ الْاخِرِ وَالْقَدْرِ خَيْرِه وَشَرِّه مِنَ اللهِ تَعَالى وَالْبَعْثِ بَعْدَالْمَوْتِ

ঈমানে মুফাস্সাল বাংলা উচ্চারণ

“আ-মানতু বিল্লা-হি ওয়া মালা-ইকা তিহী ওয়া কুতুবিহী ওয়া রুসূলিহী ওয়াল ইয়াউমিল আ-খিরী, ওয়াল ক্বাদরি খইরিহী-ওয়া শাররিহী মিনাল্লা-হি তা’আলা ওয়াল বা’সি বা’দাল মাওত।”

ঈমানে মুফাস্সালের অর্থ

“আল্লাহ পাক ও তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ ও তদীয় রাসূলগণ, শেষ দিন বা কিয়ামত দিবস এবং তকদীর তথা ভাল-মন্দ সবই আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত, আর মৃত্যুর পর পুনরুত্থান (এসব) বিষয়ের প্রতি আমি ঈমান বা আন্তরিক বিশ্বাস করলাম।”

স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক সকল পোস্ট দেখুন: স্বাস্থ্য

 

সারকথা | পাঁচ কালিমা | ইসলামের পাঁচ কালেমা

উল্লিখিত কালিমাগুলোর অর্থ হৃদয়ঙ্গম করে তার প্রতি মৌখিক স্বীকৃতি ও অন্তরের বিশ্বাস স্থাপন করত নিজের চালচলন ও কার্যকলাপকে তদনুরূপ পরিস্ফুট করে দৃঢ় তোলা প্রত্যেক মুসলমানের অপরিহার্য কর্তব্য।

ঈমানে মুফাস্সালের মধ্যে যে কয়টি বিষয় বলা হয়েছে তা হলো :

আল্লাহ তা’আলা এ বিশ্ব সংসার সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ অনাদি অনন্ত। সৃষ্টি জগত বলে কিছু ছিল না তখনও তিনি ছিলেন এবং যখন, পুনঃ কিছুই থাকবে না তখনও তিনি থাকবেন।

তিনি এক অদ্বিতীয়, কারো মুখাপেক্ষী নন। তাঁর কোন সন্তান নেই এবং তিনি কারো সন্তান নন। কেউ তাঁর সমান বা শরীক হতে পারে না। তিনি আহার-বিহার করেন না। তাঁর নিদ্রা, তন্দ্রা নেই। তিনি সকল দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত। তিনি সর্বশক্তিমান ও সর্বত্র বিরাজমান। আমরা যা কিছু করি সবই তিনি দেখেন ও জানেন। সকলের প্রভু ও প্রতিপালক তিনি। তিনিই সকলের রুজি-রোজগার ও জীবিকা দান করেন।

প্রাণীদের জীবন মৃত্যু তিনিই দিয়ে থাকেন। তিনি পরম দাতা ও দয়ালু এবং ক্ষমাশীল। তিনি অত্যন্ত সুবিচারক, পাপীদেরকে দণ্ড দান করবেন এবং নেককারদেরকে পুরস্কৃত করবেন।

যে মহান প্রভু আল্লাহ পাকের মধ্যে উপরোক্ত গুণাবলী বিদ্যমান তিনি ব্যতীত অন্য কোন মা’বুদ ইবাদতের যোগ্য হতে পারে না।

অতএব, কায়মনে প্রত্যেকেরই তাঁর ইবাদত বন্দেগী করা একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ পাক ফেরেশতার মাধ্যমে নবী ও রাসূলগণের প্রতি কিতাব নাযিল করে, বান্দাদেরকে তাঁর ইবাদত বন্দেগী করার সকল নিয়ম পদ্ধতি ও বিধান অবগত করে দিয়েছেন। বান্দাদের ওপর উক্ত বিধানসমূহ পালন করা ফরয।

বিভিন্ন টিপস এন্ড ট্রিকস সম্পর্কে জানুন: টিপস এন্ড ট্রিকস

 

ঈমানের সাতাত্তর শাখা (পাঁচ কালিমা)

ইমামগণ হাদীসের সমুদ্র মন্থন করে ঈমানের সাতাত্তর শাখা নির্ণয় করেছেন। তন্মধ্যে দিলের দ্বারা সম্পন্ন হয় ৩০টি, জবানের দ্বারা ৭টি, হাত-পা ইত্যাদি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দ্বারা সম্পন্ন হয় ৪০টি। যার বর্ণনা নিম্নরূপ:

ঈমান ও ইসলামের ৩০টি কাজ দিল বা অন্তর দ্বারা সম্পন্ন হয়।  পাঁচ কালিমা

  1. আল্লাহ তা’আলার ওপর ঈমান আনা।

  2. আল্লাহ ব্যতীত অন্য যত যা কিছু আছে সবই যে আল্লাহ্ তা’আলার সৃষ্ট, তা বিশ্বাস করা।

  3. ফেরেশতাদের ওপর ঈমান আনা।

  4. আল্লাহ তা’আলার যাবতীয় কিতাবের ওপর ঈমান আনা।

  5. সমস্ত পয়গম্বরের ওপর ঈমান আনা।

  6. তকদীরের ওপর ঈমান আনা।

  7. কিয়ামতের দিনের ওপর ঈমান আনা।

  8. বেহেশতের ওপর ঈমান আনা।

  9. দোযখের ওপর ঈমান আনা।

  10. আল্লাহ তা’আলার সাথে ভক্তি ও মহব্বত রাখা।

  11. আল্লাহর দোস্তের সাথে আল্লাহর ওয়াস্তে দোস্তি রাখা এবং আল্লাহর দুশমনের সঙ্গে আল্লাহর ওয়াস্তে দুশমনি রাখা।

  12. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি মহব্বত রাখা।

  13. যে কোন কাজ করতে হয় তা একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে করা।

  14. আন্তরিকভাবে তওবা করা। *

  15. দিলের মধ্যে আল্লাহর ভয় রাখা।

  16. দিলে দিলে আল্লাহর রহমতের আশা করা।

  17. অন্যায় কাজ করতে লজ্জাবোধ করা।

  18. দিলে দিলে আল্লাহর শোকর করা।

  19. বিশ্বস্ত হওয়া (অঙ্গীকার রক্ষা করা)।

  20. ধৈর্য ধারণ করা।

  21. বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন করা।

  22. দয়াবান ও স্নেহবান হওয়া।

  23. তকদীরের ওপর রাজী থাকা।

  24. আল্লাহর ওপর ভরসা করা।

  25. মনোমালিন্য না রাখা।

  26. হিংসা-বিদ্বেষ বর্জন করা।

  27. কোন উপায়ে কারো ক্ষতি করার চিন্তা না করা।

  28. কারো সাথে ঝগড়া করার অভিসন্ধি না করা।

  29. ষড়রিপুর ওপর জয়লাভ করার ও নফস দমনের আন্তরিক চেষ্টা করা।

  30. দুনিয়ার মহব্বত অন্তর থেকে দূর করা।

এসব বিষয়ে আমাদের অন্তর দিয়ে ইমান আনতে হবে।

➤আরো পড়ুন: ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো 2022। ফ্রিল্যান্সিং কি?

জবানের দ্বারা ঈমান ও ইসলামের ৭টি কাজ সম্পন্ন হয় | পাঁচ কালিমা

  1. কালিমা পড়া।

  2. কুরআন শরীফ পড়া।

  3. ইলমে দীন বা ধর্মীয় শিক্ষা নিজে হাসিল করা।

  4. দীনের জ্ঞান অন্যকে শিক্ষা দেয়া।

  5. আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা।

  6. আল্লাহর যিকির করা।

  7. অনর্থক কথা হতে জবানকে বাঁচিয়ে রাখা।

এসব বিষয়ে আমাদের জবানের দ্বারা ইমান আনতে হবে।

বাহ্যিক শরীরের দ্বারা ঈমানের ৪০টি কাজ সম্পন্ন হয় | পাঁচ কালিমা

  1. তাহারাত (পবিত্রতা) হাসিল করা।

  2. নামায কায়েম করা।

  3. যাকাত দেয়া।

  4. রোযা রাখা।

  5. হজ্জ করা।

  6. ইতিকাফ করা।

  7. ঈমান ও ইসলামের জন্য প্রয়োজনে স্বদেশ ত্যাগ করা।

  8. মানত করলে তা পূরণ করা।

  9. কসম খেলে তা পূরণ করা।

  10. কসম ভাঙলে তার কাফফারা আদায় করা।

  11. সতর ঢেকে রাখা।

  12. কুরবানী করা।

  13. মানুষ মরে গেলে তাকে কাফন-দাফন করা।

  14. কর্জ করলে তা পরিশোধ করা।

  15. সুদ, ঘুষ, চুরি, ডাকাতি ইত্যাদি হতে দূরে থেকে খাঁটিভাবে কারবার করা।

  16. সত্য সাক্ষ্য গোপন না রাখা।

  17. বিবাহ করে নফসের খায়েশ দমন করা।

  18. পরিবারবর্গের হক আদায় করা।

  19. পিতা-মাতার খেদমত করা।

  20. ছেলেমেয়েদের লালন-পালন করা।

  21. বড়দের প্রতি ভক্তি, ছোটদের প্রতি স্নেহ করা এবং আলিমগণকে তাজিম করা।

  22. আত্মীয়-স্বজনের সাথে ভাল ব্যবহার করা।

  23. ন্যায়বিচার করা।

  24. হক্কানী জামাতের সঙ্গে থাকা।

  25. আমীরের আদেশ পালন করা।

  26. দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করা।

  27. সৎ কাজে একে অন্যকে সাহায্য করা।

  28. সৎ কাজে আদেশ ও বদ কাজে নিষেধ এবং তবলীগ করা।

  29. চুরি, ডাকাতি, বদমায়েশি, নেশা করা, মিথ্যা দোষ ইত্যাদি সমূলে বিনাশ করে দুনিয়া শান্তিময় করার জন্য আল্লাহর নির্ধারিত হক কায়েম করা।

  30. আমানতের হিফাজত করে যার জিনিস তাকে ফেরত দেয়া।

  31. অভাবগ্রস্তকে সাহায্য করা।

  32. জিহাদ করা।

  33. পাড়া-প্রতিবেশীর হক আদায় করা।

  34. সদুপায়ে হালাল রুজি উপার্জন করা।

  35. অর্থের সদ্ব্যবহার করা।

  36. প্রত্যেক মুসলমানকে সালাম করা এবং সালামের জবাব দেয়া।

  37. হাঁচি কেউ ‘আলহামদুল্লিাহ‘ বললে তার উত্তরে ‘ইয়ার হামুকাল্লাহ‘ বলা।

  38. কাউকে কোনরূপ কষ্ট না দেয়া।

  39. খেল-তামাশার মধ্যে শরীক না হওয়া এবং

  40. রাস্তা হতে কষ্টদায়ক জিনিসকে সরিয়ে দেয়া।

এসব বিষয়ে আমাদের বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দ্বারা ইমান আনতে হবে।

➤ শিক্ষা সংক্রান্ত আকর্ষণীয় সকল পোস্ট দেখুন: শিক্ষা

➤ বিখ্যাত কিছু সাইট থেকে আজকের পোস্ট রিলেটেড পোস্ট পড়তে ক্লিক করুন: এখানে, এখানে এবং এখানে

➤ আজকের পোস্ট রিলাটেড পাঁচ কালিমা এপস পেতে ক্লিক করুন: এপস, এপস

 

তথ্যসূত্র ও শেষকথা:

তথ্যসূত্রের কথা বলতে গেলে, আমি কোনো বিশিষ্ট আলেম নই, যে নিঁখুতভাবে এতো বড় বিষয় একাকি লিখে ফেলবো। একটি বই থেকে পড়ে নিজের ভাষায় উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি।

বইটির নাম হলো:

“ইসলামের কতিপয় মৌলিক জ্ঞান ও আমল”

লেখকের নাম:

মো: শাহিদুজ্জামান

লেখায় কোনো ভুল-ভ্রান্তি থাকলে ক্ষমা করবেন। আর পাঁচ কালিমা অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ সম্পর্কিত পোস্টটি কেমন লাগলো কমেন্টে জানাবেন। ইসলামিক আরো পোস্ট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। আসসালামু আলাইকুম।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button